অপেক্ষার শেষ নেই

 

অপেক্ষার শেষ নেই

নিশাত আর আদিবা—একই কলেজে পড়ত। প্রথম দেখা হয় লাইব্রেরিতে। আদিবা চুপচাপ বই পড়ত, আর নিশাত দূর থেকে তাকে দেখত।

একদিন সাহস করে নিশাত বলল,
“এই বইটা তুমি শেষ করলে আমাকে দিও, আমিও পড়তে চাই।”

আদিবা হালকা হেসে বলল,
“ঠিক আছে, তবে ফেরত দিতে ভুলবে না।”

এই ছোট্ট কথাতেই তাদের বন্ধুত্ব শুরু।

দিন যেতে থাকে, বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় বদলে যায়। তারা একসাথে ক্লাস করত, ক্যাম্পাসে হাঁটত, বিকেলে চা খেত। নিশাত প্রায়ই বলত,
“আমি তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারি না।”

আদিবা একটু লাজুক হাসি দিয়ে বলত,
“তাহলে কখনো হারিয়ে যেও না।”

কিন্তু জীবন কখনো কথামতো চলে না।

হঠাৎ একদিন আদিবা অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে সবাই ভেবেছিল সাধারণ জ্বর, কিন্তু পরে জানা গেল—তার গুরুতর রোগ হয়েছে। ধীরে ধীরে সে দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে।

হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে আদিবা নিশাতের হাত ধরে বলল,
“যদি আমি না থাকি, তুমি আমাকে ভুলে যেও না, ঠিক আছে?”

নিশাত চোখের জল লুকিয়ে বলল,
“তুমি কোথাও যাবে না। আমি আছি।”

কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন।

কয়েক সপ্তাহ পর, আদিবা চুপচাপ চলে যায়—সবাইকে ছেড়ে।

নিশাত ভেঙে পড়ে। সে প্রতিদিন সেই লাইব্রেরিতে যায়, সেই চেয়ারে বসে যেখানে আদিবা বসত। মনে হয়, সে আবার এসে বলবে—
“এই বইটা শেষ, তুমি নাও।”

বছর কেটে যায়, কিন্তু নিশাতের অপেক্ষা শেষ হয় না।

একদিন বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে নিশাত আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তুমি তো বলেছিলে, কখনো হারিয়ে যেও না... তাহলে কেন গেলে?”

বৃষ্টির ফোঁটায় যেন উত্তর মিশে থাকে—
ভালোবাসা কখনো হারিয়ে যায় না, শুধু মানুষটাই চোখের আড়ালে চলে যায়।

Next Post