বৃষ্টিভেজা ভালোবাসা
বৃষ্টিভেজা ভালোবাসা
রিফাত প্রথমবার মেহজাবিনকে দেখেছিল এক বর্ষার বিকেলে। আকাশ তখন কালো মেঘে ঢাকা, হালকা বৃষ্টি পড়ছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিল মেহজাবিন—হাতে ছাতা, চোখে এক অদ্ভুত শান্তি।
রিফাত ভিজে যাচ্ছিল, কারণ তার কাছে কোনো ছাতা ছিল না। হঠাৎ মেহজাবিন এগিয়ে এসে বলল,
“আপনি চাইলে আমার ছাতার নিচে দাঁড়াতে পারেন।”
এই ছোট্ট প্রস্তাবটাই তাদের গল্পের শুরু।
প্রথম দিন শুধু একটু কথা, তারপর ধীরে ধীরে প্রতিদিন দেখা। তারা একই বাসে যাতায়াত করত, একই সময়ে। রিফাত বুঝতে পারল, মেহজাবিন শুধু সুন্দর না—সে ভীষণ সরল আর আন্তরিক।
একদিন রিফাত সাহস করে বলল,
“তোমার সাথে কথা না বললে আমার দিনটাই অসম্পূর্ণ লাগে।”
মেহজাবিন হেসে বলল,
“আমারও তাই মনে হয়।”
সেদিন থেকেই তাদের সম্পর্ক বদলে গেল। বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা।
তারা একসাথে অনেক স্বপ্ন দেখত—ছোট্ট একটা বাড়ি, যেখানে বৃষ্টির দিনে দুজন বসে চা খাবে, গান শুনবে। কিন্তু জীবন সব সময় গল্পের মতো সহজ হয় না।
মেহজাবিনের পরিবার হঠাৎ অন্য শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিদায়ের দিন, আবার সেই বৃষ্টি। যেন তাদের প্রথম দেখা দিনের মতো।
মেহজাবিন চোখে জল নিয়ে বলল,
“আমাদের গল্প এখানেই শেষ?”
রিফাত তার হাত ধরে বলল,
“না, এটা শেষ না। এটা শুধু একটা বিরতি।”
সময় কেটে যায়। মাস, তারপর বছর। তারা দূরে থেকেও যোগাযোগ রাখে। ভালোবাসা কমে না, বরং আরও গভীর হয়।
একদিন হঠাৎ মেহজাবিন ফিরে আসে সেই শহরে। আবার সেই বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকে, হাতে ছাতা নিয়ে।
রিফাত সেখানে পৌঁছে তাকে দেখে থমকে যায়।
“তুমি ফিরে এসেছ?”
মেহজাবিন হেসে বলল,
“কারণ আমার গল্পটা এখানেই অসম্পূর্ণ ছিল।”
বৃষ্টি আবার পড়তে শুরু করে। এবার আর তারা আলাদা হয় না। একই ছাতার নিচে, একই পথে, তারা হাঁটতে থাকে—একসাথে, চিরদিনের জন্য।

0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home